অগ্নিহোত্র যজ্ঞে শুক্রবার শুরু হচ্ছে রথযাত্রা

প্রকাশিত: ২:৪৭ অপরাহ্ণ, জুন ২৬, ২০২৫

রাজধানীর স্বামীবাগ ইসকন মন্দির থেকে আগামীকাল শুক্রবার শুরু হচ্ছে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম রথযাত্রা। নয় দিনব্যাপী এই বর্ণাঢ্য ধর্মীয় উৎসবের আয়োজন করেছে আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ (ইসকন), বাংলাদেশ।

বুধবার দুপুরে স্বামীবাগ মন্দিরে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এ তথ্য জানান ইসকন বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক চারুচন্দ্র দাস ব্রহ্মচারী।

চারুচন্দ্র দাস ব্রহ্মচারী বলেন, ভারতের পুরীর রথযাত্রার পর ঢাকার রথযাত্রা পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম রথযাত্রায় পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশে প্রতিবছর ইসকনের আয়োজনে ১২৮টির বেশি রথযাত্রা হয়, যা দেশের ইতিহাসে অভূতপূর্ব। এছাড়াও বিভিন্ন মন্দিরের আয়োজনে রথযাত্রা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

শুক্রবার সকালে বিশ্বশান্তি কামনায় অগ্নিহোত্র যজ্ঞ দিয়ে রথযাত্রার প্রথম দিন শুরু হবে। এরপর সকাল ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত হবে ১০৮টি অগ্নিহোত্র যজ্ঞ। ১২টায় ভাগবতীয় আলোচনা করবেন চারুচন্দ্র দাস ব্রহ্মচারী। সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভার পর আড়াইটায় রথের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার উদ্বোধন হবে।

বিকেল ৩টায় রথযাত্রাটি স্বামীবাগ আশ্রম থেকে শুরু হয়ে জয়কালী মন্দির, ইত্তেফাক মোড়, শাপলা চত্বর, দৈনিক বাংলা মোড়, বায়তুল মোকাররমের উত্তর পাশ, পল্টন মোড়, প্রেসক্লাব, কদম ফোয়ারা, হাইকোর্ট মাজার, দোয়েল চত্বর, শহীদ মিনার, জগন্নাথ হল ও পলাশী মোড় হয়ে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে গিয়ে শেষ হবে। সন্ধ্যা আরতির পর রাত ৮টায় ইসকন মন্দিরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও নৃত্যনাট্য হবে।

মতবিনিময় সভায় জানানো হয়েছে, নয় দিনব্যাপী উৎসবজুড়ে বৈচিত্র্যপূর্ণ আয়োজন থাকছে। ২৭ জুন থেকে ৫ জুলাই পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক আয়োজন চলবে। এতে থাকবে শ্রীচৈতন্য চরিতামৃত পাঠ, জগন্নাথ লীলামৃত পাঠ, রথযাত্রার মাহাত্ম্য বিষয়ক আলোচনা, সন্ধ্যা-আরতি, ভজন-কীর্তন মেলা ও বৈদিক নাটক।

উৎসবের শেষ দিন শনিবার (৫ জুলাই) ঢাকেশ্বরী মন্দিরে অনুষ্ঠিত হবে উল্টো রথযাত্রা। এ উপলক্ষে থাকবে ড. তাপসী ঘোষের পদাবলী কীর্তন, আলোচনা সভা ও রথের শোভাযাত্রা। যা ঢাকেশ্বরী থেকে পুনরায় স্বামীবাগ ইসকন মন্দিরে গিয়ে পৌঁছাবে।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, জগন্নাথ দেব হলেন জগতের ঈশ্বর। তাঁর অনুগ্রহ পেলে মানুষের মুক্তিলাভ ঘটে এবং জীবরূপে আর জন্ম নিতে হয় না। এই বিশ্বাস থেকেই ভক্তরা জগন্নাথ, বলরাম ও শুভদ্রার প্রতিকৃতি রথে স্থাপন করে টেনে নিয়ে যান এক মন্দির থেকে অন্য মন্দিরে।

এই উৎসবকে ঘিরে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বসবে মেলা। দূরদূরান্ত থেকে আসবেন ভক্ত ও দর্শনার্থীরা। দিনটির জন্য ভক্তরা বছর ধরে অপেক্ষায় থাকেন।

রথযাত্রা উপলক্ষে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন আয়োজকেরা। পুলিশের পাশাপাশি ইসকনের নিজস্ব প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়োজিত থাকবে।

চারুচন্দ্র দাস ব্রহ্মচারী বলেন, রথযাত্রা উৎসব এখন একটি সার্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সব ধরনের সহযোগিতা করছে। সরকারও সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিতের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

ভঅমা/ আরডি